📌 কার্ল মার্কসের ঐতিহাসিক বস্তুবাদ তত্ত্বটি আলোচনা করো ।
👉🏼 মার্কসের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মৌলিক উপাদান হলো ঐতিহাসিক বস্তুবাদ ।
মূল বক্তব্য :-
ঐতিহাসিক বস্তুবাদের সমাজে উৎপাদন ব্যবস্থার ইতিহাস
পর্যালোচনা করা ।
ভিত্তি ও পরিকাঠামো :-
সমাজের মূল চালিকা শক্তি হল অর্থনীতি । এই
অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে থাকে রাজনীতি ব্যবস্থা, আইনি ব্যবস্থা, ধর্ম,
সাহিত্য, ইত্যাদি । সামাজিক পরিকাঠামো গুলির মধ্যে পরিবর্তন এলে উপরি কাঠামোর
পরিবর্তন আসবে ।
মানুষের প্রাথমিক চাহিদা:-
মার্কসের মতে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান,
উৎপাদনের উপকরণ প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদা । বাঁচার তাগিদে মানুষকে উৎপাদনে
অংশগ্রহণ করতে হয় । এবং তার উপরে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নির্ভর করে ।
উৎপাদন পদ্ধতি :-
উৎপাদন পদ্ধতির দুটি দিক বর্তমান ।
( ক ). উৎপাদন শক্তি — শ্রমিক ও তার দক্ষতা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি কে বলা হয়
উৎপাদন শক্তি ।
( খ ). উৎপাদন সম্পদ— উৎপাদন
ব্যবস্থায় মানুষের সঙ্গে মানুষের, শ্রমিকের সঙ্গে মালিকের এবং শ্রমিক যে
যন্ত্রের সাহায্যে উৎপাদন করেছে সেই যন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠার মধ্য
দিয়ে উৎপাদন সম্পর্ক গড়ে ওঠে ।
মার্কস বলেছেন উৎপাদন শক্তি ও সমাজের মধ্যে
যদি ভারসাম্য বজায় থাকে তাহলে, শোষনহীন উৎপাদন ব্যবস্থা এবং শোষণহীন সমাজ গড়ে
উঠবে ।
বিপ্লব শ্রেণি :-
মার্কসের মতে, বিপ্লব শ্রেণি নিজের
দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয় ও নিজ শ্রেণি সম্পর্কে সচেতন হয় ও সঙ্ঘবদ্ধ করে
তোলে, তখনই সমাজে আমূল পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব হবে ।
উপসংহার :-
কাল মার্কসের ঐতিহাসিক বস্তুবাদ সম্পর্কে সমাজ বিকাশের মূল
সূত্রের সন্ধান দিয়েছে । যদিও কিছু কিছু ঐতিহাসিকগন ঐতিহাসিক বস্তুবাদের
সমালোচনা করেছেন, তবে তাদের বক্তব্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভ্রান্ত বলছ প্রকাশ
পেয়েছে ।